Voter card Correction time

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে ২০২৪

জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করেছেন ? তবে জানেন না সংশোধন আবেদন অনুমোদন হতে কত দিন সময় লাগবে ? আজকের পোস্টে আমরা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে এবং কেন বেশি বা কম সময় লাগে তা বিস্তারিত জানবো। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের কিছু নির্দিষ্ট ধরণ বা ক্যাটাগরি আছে। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন অনুমোদন হতে কত দিন সময় লাগবে তা নিভর করে সংশোধনের ধরণ অর্থাৎ ক্যাটাগরির উপর। 

অনেকেই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার পর আবেদনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকে না। অনেক দিন হয়ে যাওয়ার পরে অনেকে মনে করে আইডি কার্ড সংশোধন আবেদনে কোনো ভুল হয়েছে। এবং আবার নতুন সংশোধন আবেদন করে। 

সংশোধন আবেদন ক্যাটাগরি অনুযায়ী অনুমোদন হতে অনেক দিন সময় লাগতে পারে।  আজকের পোস্টে সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কার্ড সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে তা বিস্তারিত জানবো। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করে সাধারণত সর্বোচ ৭-৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময় বেশি বা কম হয়। ভোটার আইডি কার্ড তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে মোট ৪ টি ক্যাটাগরি আছে। ক, খ, গ এবং ঘ। 

সাধারণত ক ক্যাটাগরির তথ্য সংশোধনের জন্য ৭ দিন, খ ক্যাটাগরির তথ্য সংশোধনের জন্য ১৫ দিন, গ ক্যাটাগরির সংশোধন এর জন্য ৩০ দিন এবং সর্বশেষে ঘ ক্যাটাগোরির তথ্য সংশোধনের জন্য ৪৫ দিন সময় লাগে। 

আরও পড়ুন  NID Card Form নাম্বার ভুল দেখলে করণীয় ২০২৪

ভোটার তথ্য সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশনের থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ২-৫ দিন কম বা বেশি সময় লাগতেই পারে। সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময়ের পাশাপাশি সংশোধন আবেদনের দায়িত্বে কে থাকবে তাও পরিবর্তন হয়। 

বোঝার সুবিধার্তে নিম্নে ক্যাটাগরি অনুযায়ী দায়িত্ত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে তার একটি তালিকা দেওয়া হলো –

সংশোধনের ক্যাটাগরি দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সময় 
ক উপজেলা নির্বাচন অফিসার ৭ দিন 
খ জেলা নির্বাচন অফিসার ১৫ দিন 
গ আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার ৩০ দিন 
ঘ NID Wing এর মহাপরিচালক ৪৫ দিন 
Voter ID Card Correction

নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে অথবা অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করলে আবেদনটি প্রথমে NID Wing এ কর্মরত দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত অফিসারের কাছে যায়।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে
NID Wing

দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশোধন আবেদনের ধরণ অনুসারে আবেদনগুলো ক্যাটাগোরাইজ করেন। এবং ক্যাটাগরি অনুসারে দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদনগুলো পাঠিয়ে দেন। 

এরপর দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন যাচাই করে বাতিল বা অনুমোদন করে দেন। আবেদন অনুমোদন হলে ভোটার আইডি কার্ড তথ্য সংশোধন হয়ে যায়। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার সঠিক পদ্ধতি জানা নাও থাকতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – NID Card Correction Online 2024

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্যাটাগরি সমূহ 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগবে তা আবেদনের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে। কোন ক্যাটাগরিতে কোন তথ্য আছে তা জানা নাও থাকতে পারে। 

এজন্য বোঝার সুবিধার্তে নিম্নে কোন ক্যাটাগরিতে কোন তথ্য পরে তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো – 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ক্যাটাগরি – ক 

যে সকল তথ্য ভোটার আইডি সংশোধন ক্যাটাগরি ক তে পরে তা নিম্নরূপ –

  • আবেদনকাররি নামের বানান সংশোধন 
  • নামের আংশিক অংশ পরিবর্তন 
  • জন্ম তারিখ সংশোধন ( ৩ বছর )
  • বাংলা ও ইংরেজি নাম মিলানো 
  • লিঙ্গ পরিবর্তন  
  • ঠিকানা সংশোধন 
  • বৈবাহিক অবস্থা 
  • মোবাইল নাম্বার 
  • রক্তের গ্রূপ
আরও পড়ুন  ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় 2024 - যেভাবে কার্ড বের করবেন

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ক্যাটাগরি – খ  

যে সকল তথ্য ভোটার আইডি সংশোধন ক্যাটাগরি খ তে পরে তা নিম্নরূপ –

  • জন্ম তারিখ সংশোধন ( ৫ বছর )
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন 
  • স্বামি / স্ত্রীর নাম সংযোজন বা বিয়োজন 
  • প্রতিবন্ধিতা 
  • ধর্ম পরিবর্তন 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ক্যাটাগরি – গ  

যে সকল তথ্য ভোটার আইডি সংশোধন ক্যাটাগরি গ তে পরে তা নিম্নরূপ –

  • আবেদনকারী সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন (পাবলিক পরীক্ষার শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে )
  • জন্ম তারিখ সংশোধন ( ৫ বছর উর্ধ ) – ( চাকরির বয়স সীমা, ভোটার যোগ্যতা, নির্বাচন প্রার্থীর সীমা, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ভাতা অর্জনের বয়স সীমা ব্যাতিত )

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ক্যাটাগরি – ঘ  

যে সকল তথ্য ভোটার আইডি সংশোধন ক্যাটাগরি ঘ তে পরে তা নিম্নরূপ –

  • সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন ( পাবলিক পরীক্ষার শিক্ষা সনদ বাদে অন্য প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে )
  • জন্ম তারিখ সংশোধন ( সকল ক্ষেত্রে ) 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার সাধারন তিনটি  ক্যাটাগরি আছে। কি তথ্য সংশোধন করবেন তার উপর নির্ভর করে সংশোধন ফি ভিন্ন হতে পারে। আবার সংশোধন আবেদন কতো তম বার করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করেও ফি ভিন্ন হতে পারে ।

সাধারন ভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে ভ্যাট সহ মোট ২৩০ টাকা লাগে। এখানে ফি ২০০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাত ৩০ টাকা মোট ২৩০ টাকা। তবে এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র এর অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ভ্যাট সহ ১১৫ টাকা ফি প্রদান করতে হই। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি কতো। 

যেভাবে দ্রুত ভোটার আইডি কার্ড পাবেন

দ্রুত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য আলাদা কোনো ফি বা এমন কোনো কিছু নেই। সাধারণভাবে ভোটার তথ্য সংশোধনের আবেদন করলে আবেদনটি অনুমোদন হবে কিনা তা নির্ভর করে আপনার দেওয়া প্রমাণপত্রের উপর। 

আরও পড়ুন  ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করার নিয়ম - Cancel NID Application

অর্থাৎ আপনার দেওয়া প্রমান পত্র সঠিক হলে আবেদন অনুমোদনে কম সময় লাগবে। অর্থাৎ সঠিক পদ্ধিতিতে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করে সঠিক প্রমাণ পত্র দিতে পারলেই আবেদন দ্রুত অনুমোদন হবে। 

সব সময় এমন হয় না। নির্বাচন এর সময় অথবা ব্যস্ত কোনো সময়ে আবেদন অনুমোদন হতে সাধারণভাবেই বেশি সময় লাগবে। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র হিসেবে কি কি ডকুমেন্টস জমা দেওয়া যাই তা জানা নাও থাকতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে ২০২৪।  

শেষ কথা 

আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি, ভোটার আইডি কার্ড এর বিভিন্ন তথ্য সংশোধন করতে কতো দিন  প্রয়োজন হয়। আমারা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতো সময় লাগে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচণা করেছি যা আপনাকে সহজেই নতুন ভোটার আবেদন করতে সাহায্য করবে। 

আপনি যদি ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে আরো নতুন পোস্ট করতে চান তাহলে ওয়েবসাইটটি বুক মার্ক করে রাখতে পারেন। এবং আপনি  আপনার মূল্যবান মতামত বা কোন প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্টে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

FAQ’s 

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে ?

সাধারন ভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে ভ্যাট সহ মোট ২৩০ টাকা লাগে। এখানে ফি ২০০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাত ৩০ টাকা মোট ২৩০ টাকা। তবে এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র এর অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ভ্যাট সহ ১১৫ টাকা ফি প্রদান করতে হই। 

সংশোধিত স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়?

জি না।  ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের পর অনলাইনে সংশোধিত তথ্য সক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে সংশোধনের পর নতুন সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যায় না। নতুন আইডি কার্ডের প্রয়োজন হলে জাতীয় পরিচয় পত্র রি-ইস্যু আবেদন করে নতুন আইডি কার্ড তুলে নিতে হয়। 

আইডি কার্ড সংশোধন ফি কিভাবে জমা দিব?

ফি পরিশোধ করার জন্য প্রথমে আপনার বিকাশ একাউন্টে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট ড্যাশবোর্ড থেকে পে বিল > সরকারি ফি > NID Services  অপশনে যান। এখান থেকে আবেদনের ধরন ও তথ্য সিলেক্ট করে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার দিয়ে ফি পরিশোধ করতে পারেন।

Similar Posts

One Comment

  1. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু আপনারা সবাই কেমন আছেন স্যার আমার এন আইডি কার্ড কি সংশোধন করতে পারি দয়া করে বলবেন প্লিজ ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।