NID Card Correction Online 2024

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন 2024 – জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন

আপনার ভোটার আইডি কার্ড অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্রে ( NID ) ভুল তথ্য আছে ? জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে হবে ? তবে জানা নেয় কিভাবে এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে হয় ? বা এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে ? আজকের পোস্টে আমরা জন্য কিভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করবেন এবং সংশোধন করতে কি কি প্রয়োজন হবে। 

এনআইডি কার্ড আবেদনের সময় অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য থেকে যেতে পারে। ব্যক্তির নাম, পিত-মাতার নাম, ইত্যাদি তথ্য ভুল থাকতে পারে। আইডি কার্ডে তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধন করার নিয়ম জেনে সহজেই ঘরে বসে কার্ড সংশোধন করা যায়। 

সংশোধন আবেদন করে মাত্র ১৫-৩০ দিনের মধ্যেই জাতীয় পরিচয় পত্রের যেকোনো তথ্য সংশোধন করে নেওয়া যায়। 

জাতীয় পরিচয় পত্র হলো ব্যক্তির নাগরিকত্বের প্রমান এবং ব্যক্তির পরিচয় পত্র। এনআইডি কার্ড ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট সোহো আরো অংকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এনআইডি কার্ড ছাড়া পাওয়া সম্ভব না। 

ভুল তথ্যপূর্ণ আইডি কার্ড ব্যবহার করলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসেও ভুল তথ্য আসবে। এর জন্য পরবর্তীতে অনেক ঝামেলাই পড়তে হতে পারে। এজন্য আমাদের সবার উচিৎ এনআইডি কার্ডে ভুল তথ্য থাকলে তা যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন করে ফেলা। 

Table of Contents

জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) কার্ড সংশোধন 

আপনার স্মার্ট মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে পারবেন। অনলাইনে থেকে এনআইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য প্রথমেই ভিজিট করুন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ( services.nidw.gov.bd )। ওয়েবসাইটে আপনার এনআইডি কার্ড নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। 

একাউন্ট রেজিস্টার এর জন্য মোবাইল নাম্বার যাচাই এবং ফেইস ভেরিফাই করতে হবে। একাউন্ট রেজিস্টার করা হলে ড্যাশবোর্ড থেকে “এডিট প্রোফাইল” অপশনে যেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করতে হবে। সংশোধিত তথ্য দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সংশোধন ফি অনলাইনেই প্রদান করতে হবে।   

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশোধিত তথ্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র অর্থাৎ ডকুমেন্টস আপলোড করতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্রের যে তথ্য সংশোধন করবেন তার সত্যতা প্রমান করার জন্যই মূলত সত্যায়িত ডকুমেন্টস প্রদান করতে হয়। 

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন আবেদন সঠিক ভাবে করলে এবং বৈধ হলে সাধারণভাবে ১৫-৩০ দিনের মধ্যেই আবেদন অনুমোদন হয়ে যায়। তবে নির্বাচন এর সময় আবেদন করলে সময় সাধারণের থেকে বেশি লাগতে পারে। 

NID Card সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ NID Card সংশোধন করতে সাদাহরণোৎ শিক্ষা সনদ, আবেদনকারীর পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন, বিবাহিত হলে বিয়ের কাবিন নাম, সার্ভিস বইয়ের ( MPO Sheet ) কপি, পিত-মাতার আইডি কার্ড এবগং সন্তানের আইডি কার্ড।

এনআইডি কার্ড সংশোধের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন তথ্য সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বোঝার সুবিধার্তে নিম্নে তথ্য সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকা দেওয়া হলো – 

সংশোধনের বিষয় 
আবেদনকারীর নাম সংশোধন SSC / HSC / সমমানের শিক্ষা সনদ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ড্রাইভিং লাইসেন্স / পাসপোর্ট MPO Sheet বিবাহিত হলে কাবিন নাম সন্তানের এনআইডি কার্ডের এর কপি 
জন্ম তারিখ সংশোধন SSC / HSC / সমমানের শিক্ষা সনদ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ড্রাইভিং লাইসেন্স / পাসপোর্ট MPO Sheet বিবাহিত হলে কাবিন নাম 
পিতা-মাতার নাম সংশোধন SSC / HSC / সমমানের শিক্ষা সনদ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ড্রাইভিং লাইসেন্স / পাসপোর্টপিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড চাকরিজীবী হলে অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন পত্র ওয়ারিসন সনদ বা প্রত্যয়ন পত্র ভাই / বোন এর এনআইডি কার্ড নাম্বার 

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে কি কি লাগে তা সকলের জানা নাও থাকতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে যা যা  লাগে ২০২৪। 

আরও পড়ুন  ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করার নিয়ম - Cancel NID Application

NID Card সংশোধন ফি  

সাধারণ ভাবে NID Card সংশোধন করতে ২৩০ টাকা সংশোধন ফি প্রয়োজন হয়। তাছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্রের অন্যান্য সাধারণ তথ্য সংশোধন ফি হলো ১১৫ টাকা। আপনি যদি উভয় ধরণের তথ্য সংশোধন করতে চান তবে সম্মিলিতভাবে মোট ৩৪৫ টাকা সংশোধন ফি পরিষদ করতে হবে। 

আপনি চাইলে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রযোজ্য সংশোধন ফি পরিষদ করতে পারেন। বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী বিকাশ এবং নগদ মাধ্যমেও এই ফি পরিষদ করা যায়। 

কিভাবে পরিষদ করবেন তা জানা নাও থাকতে পারে। আবার কোন তথ্য সংশোধনে কতটা টাকা লাগবি তা বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হতে পারে। এনআইডি কার্ড সংশোধন ফি কত এবং কিভাবে পরিষদ করবেন বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – NID Card Correction Fee.

NID Card সংশোধন আবেদন করার নিয়ম 

জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ NID Card সংশোধন করার জন্য প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ( services.nidw.gov.bd ) ভিজিট করতে হবে। ওয়েবসাইটে যেয়ে আবেদনকারীর NID নাম্বার, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা প্রদান করে একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। পূর্বে থেকে একাউন্ট থাকে NID নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট এ লগইন করতে হবে। একাউন্ট লগইন করলেই একাউন্ট ড্যাশবোর্ড পেয়ে যাবেন। 

এখন থেকে এডিট অপসন নির্বাচন প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করতে হবে। এরপর প্রযোজ্য সংশোধন ফি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টন্স আপলোড করে আবেদনটি জমা দিতে হবে। আবেদন অনুমোদন হলে আপনার তথ্য সংশোধন হয়ে যাবে। 

বোঝার সুবিধার্তে জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) সংশোধন পদ্ধতিটি নিম্নে ধাপে ধাপে বিস্তারিত দেখানো হলো। নিম্নে দেওয়া ধাপ গুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই NID Card সংশোধন আবেদন করতে পারবেন।  

ধাপ ১ – প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত করা 

এনআইডি কার্ড সংশোধন করার আগে আপনার উচিৎ কি তথ্য সংশোধন করবেন তা ঠিক করে নেওয়া। এবং ওই তথ্য সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে রাখা। 

প্রয়োজনীয় ডুকুমেন্টস স্ক্যান করে নির্দিষ্ট সাইজে ক্রপ করে নিতে হবে। স্ক্যান না করতে পারলে পর্যাপ্ত লাইট সহ স্পষ্ট ছবি তুলে দিলেও চলবে। ছবিতে পুরো ডকুমেন্ট স্পষ্ট আসতে হবে। 

ধাপ ২ – Services nidw gov bd তে একাউন্ট রেজিস্টার করা 

প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ( services.nidw.gov.bd ) ভিজিট করতে হবে। ওয়েবসাইটে যেয়ে আবেদনকারীর NID নাম্বার, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা প্রদান করে একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। পূর্বে থেকে একাউন্ট থাকে NID নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট এ লগইন করতে হবে।

services.nidw.gov.bd
services.nidw.gov.bd

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ( services.nidw.gov.bd ) থেকে আরো কি কি সেবা পেতে পারেন এবং সেবা গুলো কিভাবে পাবেন জানা নাও থাকতে পারে। Services nidw gov bd সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – NID বিষয়ক সকল সেবা যেভাবে পাবেন। 

ধাপ ৩ – প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করা 

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে একাউন্ট রেজিস্টার করা হলে একাউন্ট ড্যাশবোর্ড পেয়ে যাবেন। এখন থেকে প্রোফাইলে এ প্রবেশ করতে হবে। প্রোফাইল আবেদনকারীর সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। 

জাতীয় পরিচয় পত্রে মোট ৩ ধরণের তথ্য সংশোধন করা যায়। ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য এবং ঠিকনা। 

NID Card Information Correction
NID Card Information Correction

কি তথ্য সংশোধন করবেন তা ঠিক করা থাকলে তথ্য সংশোধনের ধরণ করে এডিট অপসন নির্বাচন করতে হবে। এখন থেকে যেই তথ্যটি সংশোধন করতে চান তার বাম পাশে থাকা টিক বক্স পূরণ করতে হবে। 

এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণপত্রের সাথে মিল রেখে সঠিক ভাবে লিখতে হবে। সংশোধিত তথ্য দেওয়া হলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে। 

এখন সর্বশেষে যে সকল তথ্যের সংশোধিত রূপ এবং পূর্ণ রূপ দেখতে পাবেন। অর্থাৎ সংশোধন সামারি দেখতে পাবেন। এই পর্যায়ে সংশোধন ফি প্রদান করতে হবে   

ধাপ ৪ – NID Card সংশোধন ফি প্রদান 

এখন সংশোধিত তথ্যের জন্য প্রযোজ্য ফি প্রদান করতে হবে। সংশোধিত তথ্যের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত সংশোধন ফি ভিন ভিন হয়ে থাকে। ফি প্রদান করার পরই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড এবং সংশোধন ফর্ম ডাউনলোড করতে হবে। 

আরও পড়ুন  পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম 2024
NID Card Correction Fee
NID Card Correction Fee

বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রযোজ্য সংশোধন ফি পরিষদ করা যায়। বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস বিকাশ এর মাধ্যমেও সংশোধন ফি প্রদান করা যায়। কিভাবে বিকাশ এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) সংশোধন ফি প্রদান করবেন নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো –

বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

আপনি চাইলে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস রকেট অথবা বিকাশ থেকেও সহজেই জাতীয় পরিচয়পত্র অর্থাৎ ভোটার আইডি কার্ড তথ্য সংশোধনী পরিশোধ করতে পারেন। এভাবে ফি পরিশোধ করার জন্য প্রথমে আপনার বিকাশ একাউন্টে লগইন করুন। 

Bkash App
Bkash App

অ্যাকাউন্ট ড্যাশবোর্ড থেকে পে বিল > সরকারি ফি > NID Services  অপশনে যান। এখান থেকে আবেদনের ধরন ও তথ্য সিলেক্ট করে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার দিয়ে কি পরিশোধ করতে পারেন। 

Source – bkash.com
Source – bkash.com

প্রযোজ্য ফি পরিষদ করা সম্পূর্ণ হলে আবার আপনার NID Card তথ্য সংশোধন এর পেজে ফিরে যেতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টন্স আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। 

ধাপ ৫ – ডকুমেন্ট আপলোড ও আবেদন সাবমিট

পোস্টে প্রথমেই জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর ছবি তুলে বা স্ক্যান করে নিতে বলা হয়েছিল। এখন কি কি তথ্য সংশোধন করেছেন তার উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। 

Documents For NID Correction
Documents For NID Correction

যে যে তথ্য সংশোধন করেছেন তার সত্যতা প্রমানের জন্যই এসকল ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সংশোধন করতে ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো পড়তে পারেন – ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে যা যা  লাগে ২০২৪। 

সাধারণভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য শিক্ষা সার্টিফিকেট বা সনদ, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হয়। এছাড়া কার্ড এর ঠিকানা সংশোধন করার ক্ষেত্রে আপনার নাগরিকত্বের সনদ, জন্ম নিবন্ধনের কপি, ইউটিলিটি বিল এর কপি যেমন বিদ্যুৎ বিল বা পানির বিল, এবং জমির পর্চার কপি প্রয়োজন হয়।

ধাপ ৬ – NID Card সংশোধন ফর্ম ডাউনলোড 

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করে এবং সংশোধন ফি পরিষদ করে সংশোধন আবেদনটি সাবমিট করার পর আবার একাউন্ট ড্যাশবোর্ডে ফায়ার যেতে হবে। ড্যাশবোর্ডে সংশোধন আবেদনটি ডাউনলোড করার অপসন পেয়ে যাবেন। 

NID Card Correction Form
NID Card Correction Form Download

এখন থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) সংশোধন ফরমটি ডাউনলোড করতে হবে। ফর্মটি ডাউনলোড করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। 

NID Card জন্ম তারিখ সংশোধন 

NID Card এর জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য প্রথমেই আপনার একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। একাউন্ট এ লগইন করে প্রোফাইল থেকে এডিট অপসন নির্বাচন করতে হবে। এখন থেকে জন্ম তারিখ সংশোধন করতে হবে। 

প্রয়োজনীয় ফি পরিষদ করে এবং ডকুমেন্টস আপলোড করে আবেদন জমা দিতে হবে। NID Card এর জন্ম তারিখ সংশোধন করতে সাধারণত SSC অথবা সমমানের শিক্ষা সনদ এবং ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হয়।

কোনো শিক্ষা সনদ না থাকলে আবেদনকারীর ড্রাইভিং লাইসেন্স / পাসপোর্ট, সার্ভিস বই অর্থাৎ MPO Sheet এর কপি এবং বিবাহিত হলে কাবিন নাম প্রয়োজন হবে। 

NID Card নাম সংশোধন 

NID কার্ডে নিজের সম্পূর্ণ নাম অথবা নামের আংশিক অংশ সংশোধন করা যাই। বোঝার সুবিধার্তে নিম্নে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো – 

নিজের নাম সংশোধন (আংশিক)

জাতীয় পরিচয় পত্রে নিজের নামের কিছু অংশ অর্থাৎ আংশিক নাম সংশোধন করার জন্য বোর্ড পরীক্ষার সনদ যেমন JSC / SSC / HSC সার্টিফিকেট, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিয়ের কাবিননামা ও ড্রাইভার লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এরও প্রয়োজন হতে পারে। 

এ সকল ডকুমেন্ট এর ছবি বাস স্কেন্ড কপি জমা দিতে হবে। আংশিক নাম সংশোধন আপনি সাধারণ উপজেলা পর্যায়ে সম্পন্ন করতে পারবেন।

নিজের নাম সংশোধন (সম্পূর্ণ) 

অনেকেরই জাতীয় পরিচয় পত্রে অর্থাৎ ভোটার আইডি কার্ডের পুরো নাম এর সাথে বিভিন্ন সার্টিফিকেট বা অন্যান্য জায়গায় নামের মিল থাকে না। এতে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। 

আরও পড়ুন  নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার নিয়ম 2024

যেমন জমিজমা, রেজিস্ট্রেশন ভিসা ইত্যাদি তৈরি সময় নাম সঠিক না থাকলে তৈরি করা অনেক সময় সম্ভবই হয় না। আপনার সংখটা নাম সংশোধন করতে হলে বেশ কিছু ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে। নিম্নে জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পূর্ণ নাম সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের একটি তালিকা দেয়া হলো :- 

  • পাসপোর্ট
  •  ড্রাইভিং লাইসেন্স
  •  শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র বা সার্টিফিকেট
  •  ডিজিটাল জন্ম সনদ
  •  সন্তানের জাতীয় পরিচয় পত্র
  •  এমপিও  এর কপি
  •  উপজেলা নির্বাচন অফিসরের প্রতিবেদন

উপরোক্ত ডকুমেন্টগুলো থাকলে সংশোধন আবেদন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের সম্পূর্ণ নাম সংশোধন করতে পারেন। 

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা সংশোধন 

অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয় পত্র এর ঠিকানা গুরুত্বপূর্ণ নাও মনে হতে পারে। তবে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা ভোটার আইডি কার্ড এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

তাছারা পাসপোর্ট বা এর মতন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সনদ বা সার্টিফিকেট বানানর সময় ঠিকানা প্রয়োজন হই এবং এই সময় জাতীয় পরিচয় পত্র এর ঠিকানা যদি ভুল থাকে তবে আবেদন বাতিলও হয়ে যেতে পারে। 

এজন্য আমাদের উচিৎ জাতীয় পরিচয় পত্রে ঠিকানা ভুল থাকলে তা যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন করে নেয়া। জাতীয় পরিচয় পত্রে ঠিকানা সংশোধন এর জন্য প্রয়জনিও কাগজপত্রের একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হল :-

  •  বাড়ির উটিলিটি বিলের কপি যেমন বিদ্যুৎ বা পানির বিল এর কপি
  • ১৭ সংখার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • ট্যাক্স রশিদ বা জমির খাজনা আদায়ের রশিদ

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনের ধরন অনুসারে সংশোধন ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এমনকি সংশোধিত আইডি কার্ড ডেলিভারির সাধারণ নাকি জরুরী তা অনুসারেও সংশোধন ভিন্ন হয়। বোঝার সুবিধার্থে নিম্নে  ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি এর একটি তালিকা দেওয়া হলো :- 

সংশোধন এর ধরন ফি এর পরিমাণফি ভ্যাট মোট ফি 
সাধারন তথ্য সংশোধন ২০০ টাকা ৩০ টাকা ২৩০ টাকা 
অন্যান্য তথ্য সংশোধন ১০০ টাকা১৫ টাকা১১৫ টাকা 
উভয় তথ্য সংশোধন ৩০০ টাকা৪৫ টাকা৩৪৫ টাকা 
আইডি কার্ড রে-ইস্যু ৩০০ টাকা ৪৫ টাকা৩৪৫ টাকা
জরুরি রে-ইস্যু ৫০০ টাকা ৭৫ টাকা ৫৭৫ টাকা 

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে কত দিন লাগে

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন আবেদনে করার পর এনআইডি কার্ড রি-ইস্যু হতে কত দিন লাগে তা সঠিক ভাবে বলা যায় না। তবে সাধারণভাবে NID Card সংশোধন করতে ৩০-৬০ দিন সময় লাগে। 

কত সময় লাগবে তা কি তথ্য সংশোধন করেছেন এবং আবেদনের ধরণের উপর নির্ভর করে। অনলাইনে NID Card সংশোধন করার ক্ষেত্রে আবেদন সঠিক ভাবে করলে এবং উপযুক্ত প্রমাণপত্র প্রদান করতে পারলে ১৫-৩০ দিনের মধ্যেও আবেদন অনুমোদন হয়ে যেতে পারে। 

নির্বাচন চলাকালীন এই সময় সাদাহরণ থেকে অনেক বেশি লাগতে পারে। তাছাড়া আবেদনে কোনো ভুল করলে অনুমোদন পেতে বেশি সময় লাগে। এজন্য আমাদের উচিৎ পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সঠিক নিয়ম জেনে সংশোধন আবেদন করা। 

শেষ কথা 

আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি, আপনি কিভাবে অনলাইন  এর সাহায্যে ঘরে বসেই আপনার  NID Card এর বিভিন্ন তথ্য সংশোধন করতে পারেন। আমরা  সঠিক এবং সব থেকে সহজ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছি যেগুলো আপনাকে সহজেই অনলাইনে NID Card সংশোধনে সাহায্য করবে। 

আপনি যদি  NID card সম্পর্কে আরো পোস্ট পড়তে চান তাহলে আপনি আমাদের ওয়েবসাইটটি বুক মার্ক করে রাখতে পারেন এবং আপনি আপনার মূল্যবান মতামতটি আমাদের সাথে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

FAQ’s

NID Card সংশোধন করতে কি কি ডকুমেন্টন্স প্রয়োজন হবে ?

সাধারণভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য শিক্ষা সার্টিফিকেট বা সনদ, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হয়। এছাড়া কার্ড এর ঠিকানা সংশোধন করার ক্ষেত্রে আপনার নাগরিকত্বের সনদ, জন্ম নিবন্ধনের কপি, ইউটিলিটি বিল এর কপি যেমন বিদ্যুৎ বিল বা পানির বিল, এবং জমির পর্চার কপি প্রয়োজন হয়।

NID Card সংশোধন করতে সাধারণত কত দিন সময় লাগে ?

কত সময় লাগবে তা কি তথ্য সংশোধন করেছেন এবং আবেদনের ধরণের উপর নির্ভর করে। অনলাইনে NID Card সংশোধন করার ক্ষেত্রে আবেদন সঠিক ভাবে করলে এবং উপযুক্ত প্রমাণপত্র প্রদান করতে পারলে ১৫-৩০ দিনের মধ্যেও আবেদন অনুমোদন হয়ে যেতে পারে। 

NID Card সংশোধন ফি কত টাকা ?

প্রথমবার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদন ফি মোট ২৩০ টাকা। এখানে ফি ২০০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাট সহ মোট ফি ২৩০ টাকা। দ্বিতীয়বার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি ৩০০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাট সহ ফি মোট ৩৪৫ টাকা। দ্বিতীয়বার আবেদনের পর আবার যতবার আবেদন করবেন প্রত্যেকবার ভ্যাট সহ মোট ৫৭৫ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। 

পিতা – মাতার নাম সংশোধন করতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ?

সাধারনভাবে পিতা মাতার নামের বানান বা সম্পূর্ণ নাম সংশোধন করতে শিক্ষা সনদ এবং জন্ম সনদ অবশ্যই থাকা লাগে। এগুল ছারাও যে যে ডকুমেন্তস প্রয়োজন হবে তার একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হল :- পিতা / মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) কার্ড, ভাই, বোনের জাতীয় পরিচয় পত্র  ( NID ) কার্ড, বিবাহের কাবিনামা, শিক্ষা সার্টিফিকেট 

রক্তের গ্রূপ সংশোধন করা যাই ?

জি হ্যা। জাতীয় পরিচয় পত্রের রক্তের গ্রূপও সংশোধন করা যাই। 

রক্তের গ্রূপ সংশোধন করতে কি কি প্রয়োজন হবে ?

কোন কারণে রক্তের গ্রুপ ভোটার আইডি কার্ডে ভুল থাকলে বা রক্তের গ্রুপ না থাকলে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদনের মাধ্যমে রক্তের গ্রুপ সংশোধন করে দিতে হয়। ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ সংশোধন করতে  নিকটস্থ হাসপাতাল থেকে রক্ত পরীক্ষা করে নিতে হবে।  এটি অবশ্যই বাংলাদেশের রেজিস্টার্ড কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল থেকে করাতে হবে। 

Similar Posts

One Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।